• Home
  • Entertainment
  • Bollywood
  • বলিউডে কিছু সিনেমা যা রিলিজ হওয়া ছিল খুব ঝামেলা
Bollywood Entertainment

বলিউডে কিছু সিনেমা যা রিলিজ হওয়া ছিল খুব ঝামেলা

পদ্মাবতী:

সঞ্জয় লীলা বানশালীর ঐতিহাসিক চরিত্রের ওপর সিনেমা পদ্মাবতী-র রিলিজ নিয়ে ধুন্ধুমার দেশজুড়ে। দেশের কিছু ধর্মীয় সংগঠন কিছুতেই পদ্মাবতীর রিলিজ হতে দিচ্ছে না। পদ্মাবতী সিনেমায় দীপিকাকে দিয়ে সিনেমায় পরিচালক সঞ্জয় যা করিয়েছেন তা কোনও রাজপুত মহিলা ওইভাবে সাধারণ মানুষের সামনে নাচতেন না। সেই কাজ করে রাজপুতদের আত্মসম্মানেও আঘাত করেছেন দীপিকা। ওই সিনেমায় যেভাবে রানি পদ্মাবতীর চরিত্রকে তুলে ধরা হয়েছে, তা সঠিক নয়। ওই সিনেমায় ইতিহাসকে বিক্রিত করা হয়েছে বলেও দাবি করে সিনেমা রিলিজ হলে সিনেমা হল পুড়িয়ে দেওয়া হবে, পরিচালক খুন, নায়িকাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

দেখে নিন ২০টি বলিউড সিনেমা যা রিলিজের আগে বিভিন্ন কারণে সমস্যা হয়েছিল।

২০) ব্যান্ডেট কুইন

ডাকাত ফুলন দেবীর জীবনীর ওপর তৈরি হওয়া এই সিনেমাটি ব্যান করার দাবি ওঠে। কারণ এই সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী সীমা বিশ্বাসের ওপর একটি ধর্ষণের দৃশ্য ছিল, পাশাপাশি তিনি আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেছিলেন। এই সিনেমাকে কিছুতেই রিলিজ না করতে দেওয়ার দাবিতে জোর আন্দোলন হয়েছিল। অবশ্য কোর্ট জানান, চরিত্রের প্রয়োজনে, গল্পের প্রয়োজনে এইসব দৃশ্যগুলির দরকার ছিল। তারপর শেখর কাপুরের এই সিনেমাটি রিলিজ পায়।

১৯) আঁধি

সুচিত্রা সেন-সঞ্জীব কুমার অভিনীত এই চিরকালীন রোমান্টিক সিনেমাটা বিতর্কে চরমে উঠেছিল। একেবারে জরুরি অবস্থার সময় নির্মিত এই ছবিটি নিষিদ্ধ করে তত্‍কালীন ইন্দিরা গান্ধীর সরকার৷ সত্তরের দশকে গুলজার পরিচালিত সুচিত্রা সেন এবং সঞ্জীব কুমার অভিনীত ছবিটি ঘিরে কম জল ঘোলা হয়নি৷ পলিটিক্যাল-রোমান্টিক ছবি ‘আঁধি’তেও সুচিত্রা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মূলত ছবির কাহিনী গড়ে উঠেছিল বিহারের এক নেত্রী তারকেশ্বরী সিনহার জীবনী অবলম্বনে। কিন্তু ছবি দেখতে গিয়ে সুচিত্রা সেন অভিনীত আরতি চরিত্রটির মধ্যে তখন অনেকেই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে দেখতে পেয়েছিলেন। ছবিতে দেখা যায়- ভোটের প্রচারে বেরিয়ে হঠাত্‍ এক জায়গায় আরতির সঙ্গে দেখা হয়ে যায় বহুদিন ধরে আলাদা হয়ে যাওয়া তাঁর হোটেল ম্যানেজার স্বামীর৷ এরপর তাঁদের দুজনকে একান্তে ঘোরাফেরা করতে দেখে নানা রকম রসালো গুঞ্জন শুরু হয় ৷ এমন ঘটনাকে সামনে রেখে ওই নেত্রীর চরিত্রে কালি ছিটিয়ে ভোটের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায় বিরোধীরা৷ সেই চক্রান্ত অবশ্য ভেস্তে যায় কারণ বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রচার সভায় আরতি সরাসরি নিজে তাঁর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে জানিয়ে দেন- ওই আলোচিত ব্যক্তি তাঁর স্বামী ৷

১৮) ফায়ার

দুই গৃহবধূর সমকামিতা নিয়ে তৈরি হওয়া এই সিনেমা নিয়ে ঝড় ওঠে দেশে। নন্দিতা দাশ, শাবানা আজমি-র মধ্যে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছু দৃশ্যের জন্য এই সিনেমাকে কিছুতেই রিলিজ করে দেওয়া হচ্ছিল না। বিস্তর জলঘোলার পর সমকামিতা আর সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে গড়ে ওঠা এই সিনেমা রিলিজের সময় বারবার পিছিয়ে যাওয়ার পর মুক্তি পেয়েছিল।

১৭) ইনসাফ কা তারাজু

১৩ বছরের এক মেয়েকে ধর্ষণের দৃশ্য থাকায় এই সিনেমার রিলিজ নিয়ে ব্যাপক গোলমাল হয়েছিল। সিনেমাতে রাজ বাব্বর জিনাত আমানকে ধর্ষণ করেছিলো। এজন্যে আদালতে জিনাত আমান বিচার চেয়েছিলো।কিনতু বিচার সে পায় নাই। আইনের ফা্ঁকফোকরে বিচারক সেদিন রাজ বাব্বরকে খালাস দেয়। বিচারের বানী সেদিনই নিরবে কে্ঁদে উঠেছিলো। লম্পট রাজ বাব্বর প্রশ্রয় পেয়ে যায় এবং পরবর্তীতে জিনাত আমানের ছোটবোন পদ্মিনী কোলাপুরীকে ধর্ষণ করে।এবার আর জিনাত আমান আদালতে বিচার চাইতে যায় নাই।সে একটি গুলি ভর্তি বন্দুক ম্যানেজ করে। প্রেমজালে টোপ ফেলে রাজ বাব্বরকে একদিন বাড়ীতে ডেকে নিয়ে আসে। তারপর যৌনতার মায়াজালে প্রতিশোধ।

১৬) সত্যম শিবম সুন্দরম

সবার জানা কথা। কেন এই সিনেমা রিলিজের আগে ঝামেলা হয়েছিল। তবে শুধু অশ্লীলতা নয় অনেকেই জানেন না সিনেমার নাম নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। এমন একটা অশ্লীল সিনেমার সঙ্গে শিবের নাম জড়াতে দিতে চান না বাবার ভক্তরা।

১৫) রাম তেরি গঙ্গা মেলি

এটাও সেই এক গল্প। মন্দাকিনীর স্নানের দৃশ্যের জন্য তোলপাড় পড়ে যায়।

১৪) ব্ল্যাক ফ্রাইডে

১৯৯৩ সালে মুম্বই বিস্ফোরণের ওপর তৈরি হওয়া অনুরাগ কাশ্যপের এই সিনেমা দু বছর ধরে ব্যান করা হয়েছিল শুধু এই কারণে যে তা বিচারবিভাগীয় তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই বলেন ব্ল্যাক ফ্রাইডের জন্য মুম্বই বিস্ফোরণ রায়ে দ্রুততা পায়। ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও মুম্বাই হাইকোর্টে দায়ের করা এক মামলার কারণে দুই বছর পরে ২০০৭ সালে মুক্তি পায় ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’।

১৩) কিসসা কুর্সি কা

দেশের জরুরী অবস্থার সময় তৈরি হওয়া সঞ্জয় গান্ধী-র ওপর তৈরি হওয়া এই সিনেমা শুধু নিষিদ্ধ নয়, যাতে সব প্রিন্ট ফেলে হওয়া সেই চেষ্টাও করা হয়।

১২) পাঁচ

বহুভাবে এই সিনেমার রিলিজ আটকানো হয়।

১১) ওয়াটার

এক বিধবার প্রেমে পড়ার কাহিনি। দীপা মেহতার এই প্রেম কাহিনিকে নিয়ে আপত্তি ওঠার প্রধান কারণ ছিল বিধবাদের প্রেমে পড়া নাকি দেশের সংস্কৃত বিরুদ্ধ। বেনারসের এক বিধবা আশ্রমকে নিয়ে। সিনেমাটির শুটিং চলাকালীনও হামলার শিকার হতে হয় কলাকুশলীদের। বেনারসে শুটিং সেট ধ্বংস করে দিয়েছিল হিন্দু চরমপন্থীরা। এক পর্যায়ে এতে হস্তক্ষেপ করে ভারতের উত্তর প্রদেশ সরকার, আর তখন শুটিং বন্ধ করতে বাধ্য করা হয় নির্মাতাদের। এরপর দুই বছর বিরতি দিয়ে ২০০৭ সালে মুক্তি পায় ‘ওয়াটার’।

১০) মাই নেম ইজ খান

সিনেমার কাহিনি নিয়ে নয়, বিতর্ক শুরু হয় শাহরুখের এক মন্তব্য নিয়ে। সে বছর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এ পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মন্তব্য করায় চটে যায় হিন্দু চরমপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন শিব সেনা। শিব সেনার প্রবল বিরোধিতার মধ্যেই মুক্তি পায় কারান জোহার পরিচালিত সিনেমাটি। বেশ কয়েকটি সিনেমাহলে হামলা চালানোর পর মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে দর্শকের নিরাপত্তা চান কারান। অবশেষে পাঁচ ব্যাটালিয়ন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা হয় এবং ৬৩টি হলে নির্বিঘ্নে চলে ‘মাই নেইম ইজ খান’-এর প্রদর্শনী।

৯) সিনস

এক ক্যাথলিকে ধর্মগুরুর ওপর এই অ্যাডাল্ট সিনেমাটিকে নিয়ে আপত্তি জানায় বিবিন্ন খ্রীস্টান সংগঠন।

৮) পাপ

জন আব্রাহম-উদিতা গোস্বামীর এই সিনেমার পোস্টার নিয়ে ব্যাপক গোলমাল শুরু হয়। বাধা দেওয়া হয় ছবির পরিচালক পূজা ভাটকে।

৭) মার্ডার

মল্লিকা শেরওয়াত-ইমরান হাসমির চুমু কেন্দ্রীক থ্রিলার সিনেটা অশ্লীলতার দায়ে রিলিজের আগে সমস্যায় পড়ে।

৬) ও মাই গড

সেই ধর্ম। সেই টানটানি। ফল অক্ষয়ের ওই মাই গড দশা।

৫) উড়তা পঞ্জাব

শাহিদের এই ছবি নিয়ে বিতর্ক ওঠে ছবির নামে ‘পঞ্জাব’ ব্যবহার করাতেই ৷ ছবির গল্প পঞ্জাবে নেশা ও মাদকের ব্যবহার নিয়ে, পঞ্জাবের ইয়ং জেনারেশনে মাদকাসক্তি নিয়ে ৷ পরিচালক ও প্রযোজকের কথায়, ‘উড়তা পঞ্জাব’ থেকে পঞ্জাব সরিয়ে নিলে বিষয়টিই স্পষ্ট হবে না ৷ অন্যদিকে সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান পহেলাজ নিহালনি আপত্তি তুলেছে এই ‘পঞ্জাব’ শব্দ নিয়েই ৷ শুধু তাই নয়, পহেলাজ নিহালনি ‘ঘুষ’ খাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনুরাগের বিরুদ্ধে ৷

৪) দিলওয়ালে

দিলওয়ালে নিয়ে এই তুমুল বিতন্ডার মূলে আছে ভারতে অসহিষ্ণুতাজনিত বিতর্ককে কেন্দ্র করে শাহরুখ খানের একটি মন্তব্য যেখানে তিনি বলেছিলেন এই বিতর্ক দেশকে অন্ধকার যুগের দিকে ঠেলে দেবে। এর পর থেকেই শাহরুখ খান দেশের একটা অংশের মানুষের আক্রমণের নিশানা হয়ে ওঠেন। অনেকেই তাকে ভারত ছেড়ে পাকিস্তান চলে যাওয়ারও পরামর্শ দেন। যোগী আদিত্যনাথ, কৈলাস বিজয়ভার্গীয়ার মতো কট্টরপন্থী নেতারা এই হুমকিও দিয়েছিলেন যে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা এখন থেকে শাহরুখ খানের ছবি বয়কট করা শুরু করবেন।

৩) পিকে

ভিনগ্রহ থেকে এসে সেই গ্রহের একটা প্রাণী দেশের সব ধর্মের ঢগবাজদের একেবারে ঘণ্টা বাজিয়ে দিল। সেটা পছন্দ হয়নি। তাই সাফ বয়কট, কিছুতেই রিলিজ হতে না দেওয়া। তবে অনেক কষ্টের পর যখন রিলিজ হল তখন দেশ মুগ্ধ হয়ে গেল। যারা বয়কট করেছিলেন তারাও হলে গিয়ে দেখে এলেন এই সিনেমা।

২) মাদ্রাস কাফে

রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের ওপর তৈরি হওয়া এই সিনেমায় শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের কিছু জিনিস নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখায় বেশ কিছু তামিল সংগঠন। তবে বাঙালি পরিচালক সুজিত সরকারের এই সিনেমা দেশকে মুগ্ধ করে।

১) ফানা

যশ চোপড়ার এই সিনেমাটা বিতর্কে পড়েছিল শুধু আমির খানের মন্তব্যের জন্য। সেই বছর নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যে গুজরাটের সারদার সারোভার বাঁধ প্রকল্প নিয়ে করা আমির খানের মন্তব্যের পর বিতর্কের ঝড় ওঠে। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বলা হয় আমিরকে, যা করতে তিনি রাজি হননি। এমন অবস্থায় আসন্ন গণ্ডগোলের কথা ভেবে আগেই হাত তুলে নেন গুজরাটের কয়েকটি মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হলের মালিক। তারা জানান, আমিরের সিনেমা দেখতে আসা দর্শকদের নিরাপত্তার কোনো রকম দায়িত্ব নেবে না হল কর্তৃপক্ষ। এমনকি ‘ফানা’ প্রদর্শন না করার কথাও বলেন কয়েকজন হল মালিক। এরপর ব্যাপারটিতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে পিটিশন করেন প্রযোজক আদিত্য চোপড়া। গুজরাট সরকারের কাছে সিনেমাহলগুলোর নিরাপত্তা দাবী করে আবেদনও করেছিলেন তিনি। তবে সেই আবেদন গৃহীত হয়নি।

Related posts

On December 7, ‘Mowgli

admin

Will Shahrukh Khan and Salman Khan ever do a movie again together?

admin

Some unknown facts about Sunny Leone

admin

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy