পথশিশুদের জন্য রাস্তায় ওরা


আবুল কালাম আজাদ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
আমরা সবাই মা বাবা ভাই বোন আত্বীয় স্বজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করবো। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছি কি ? সমাজের দরিদ্র অবহেলিত পথ শিশুরা কোথায় কার সাথে বা কি পোশাকে ঈদ করবে ? আমি বিশ্বাস করি তারাও আমাদের মতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অধিকার রাখে। তাদের ইচ্ছা জাগে নতুন পোশাকে ঈদের দিনটি কাটাতে। একটু মমতা; একটু ভালোবাসা এই অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। নিষ্পাপ শিশুদের মুখের নির্মল হাসির চেয়ে মধুর এই পৃথিবীতে আর কি হতে পারে। আমরা কি পারি না ণিকের জন্য এই নিষ্ঠুর জগত সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির কিছুটা হলেও পাল্টে দিতে। আর এই স্বপ্ন পূরণের জন্য ঈদে পথ শিশুদের নতুন পোশাক দিতে সহযোগিতার বাক্স হাতে নিয়ে পথে পথে ঘুরছে বালিয়াকান্দির এক ঝাঁক তরুণ। সারা দিনই উপজেলার বিভিন্ন দোকান ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে গিয়ে অর্থ সংগ্রহ করছে।
ঈদ হবে এবার পথশিশুদের নিয়ে- নতুন পোশাকে এই শ্লোগান নিয়ে রাজবাড়ীর শতবর্ষী বালিয়াকান্দি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১২ সালের এসএসসি ব্যাচের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম বিশ্বাস এর নেতৃত্বে শোভন রহমান, আসিফ ইকবাল, ওমর ফারুক, রাব্বি বিশ্বাস, আবুল কালাম আজাদ, চন্দ্র শেখর দেবনাথ, নাইমুর রহমান স্বচ্ছ, এনামুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন বাবু আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে বালিয়াকান্দির ১০০ জন পথশিশুদের নতুন জামা উপহার দেওয়ার লক্ষে বাজারের দোকানে দোকানে এখন ঘুরছে এই তরুণরা।
সামাজিক আন্দোলনের সংগঠন “তরুণ সংগঠন” এর প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ শেখ, ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, সবাই মিলে যদি এই খুশিটাকে ভাগ করে নেওয়া যায় তাহলেই তো ভাল লাগা আমাদের সমাজ তথা সবার। আর তা যদি হয় নতুন পোশাকে তার আনন্দ আরও বেড়ে যায়। তরুণরা যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটা নি:সন্দেহে প্রশাংসার দাবীদার। ওদের জন্য সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।
সামাজিক আন্দোলনের সংগঠন “তরুণ সংগঠন” এর সভাপতি মো: আবুল কালাম আজাদ জানায়, ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা চাই নতুন পোশাকে ঈদ করুক সবাই। আর এই ইচ্ছা নিয়েই আমরা ২০১২ সালের এসএসসি ব্যাচের পরীক্ষার্থীরা নিজেরা সাধ্যমতো কিছু টাকা সংগ্রহ করেছি। বিশেষ করে বালিয়াকান্দি বাজারে কিছু ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সম্ভাবনার দাঁড় খুলে দিয়েছে।
আর কিছু টাকার জন্যে আমরা বাজারের সকল ব্যবসায়ী ও সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিচ্ছি।
বালিয়াকান্দি বাজারের ব্যবসায়ি রুপের হাটের স্বত্বাধিকারি মো: ইউসুফ আলী বলেন, এই বয়সে এসকল তরুণরা যে উদ্যেগ নিয়েছে তা নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আমি মহৎ এই কাজের জন্য এই তরুণদের অভিনন্দন জানাই। 
বালিয়াকান্দি বাজারের মোবাইলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ বিক্রেতা বলেন, আমাদের তরুণরা পথ শিশুদের নতুন পোশাক দেওয়ার জন্য যে উদ্যেগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। আমি তাদের জন্য দোয়া করি তাদের স্বপ্ন সফল হবে। একটি দিনের জন্য হলেও পথ শিশুদের মুখে হাঁসি ফুটবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম বিশ্বাস জানায়, পথশিশুদের কাছে ঈদ মানে একটি নতুন জামা। ওরা ধর্ম বোঝেনা। নিজেদের অক্ষমতার কারনে ওরা বঞ্চিত হয় ঈদের আনন্দ থেকে। এসকল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের একটু আনন্দ দিতে , ঈদের আনন্দ একটু ভাগ করে নিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা। এসময় এ তরুন আরো বলেন, আমরা হযতো সবার মুখে হাসি ফোটাতে পারবনা, কিন্তু চেষ্টা তো করতে পারি। ওদের হাসি মুখই আমাদের আতœতৃপ্তি।
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিউর রহমান শোভন জানায়, এখন থেকে প্রতি বছরই এসকল শিশুদের নিয়ে তারা কাজ করবে। এসকল শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে তারা বিশেষ নজরদারি রাখবে। তারই ভিত্তিতে প্রাথমিক ভাবে ১০০ জন পথশিশুকে বাছাই করা হয়েছে। এদেরকে স্থায়ি ও স্বাভাবিক ভাবে জীবন-যাপন করানোর জন্য তারা কাজ করবে বলেও জানান।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আবুল কালাম আজাদ জানান, যে কাজটি আমাদের করার কথা ছিল, সেই কাজটি এই সকল তরুণরা করছে। দেশের বিভিন্ন দুর্দিনের সময়ে আমাদের তরুণরাই এগিয়ে এসেছে। এই ঈদে ওরা যে মহতি কাজটি করেছে তা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

No comments: