বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘরে যাবার একমাত্র রাস্তাটি মধুমতী গড়াই নদী গর্ভে বিলীন


বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘরে যাবার
একমাত্র রাস্তাটি মধুমতী গড়াই নদী গর্ভে বিলীন
মধুখালী(ফরিদপুর)সংবাদদাতা :
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের (সালামাতপুর) রউফনগর সড়কটির তিনটি জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ গ্রন্থগার ও স্মৃতি যাদুঘরে যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আনুমানিক দুই কিলোমিটার জায়গা জুড়ে মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙ্গনের ফলে মানুষ এখন পায়ে হেটে ও কিছু অংশে ভ্যানে চলাচল করছেনন। ভাঙ্গনের ফলে কামারখালী ইউনিয়নের ওই সড়কের গন্ধখালী, ফুলবাড়ীয়া ও রাজধরপুর গ্রামে মধুমতি নদীর তীর সংলগ্ন দুই কিলোমিটার জায়গা থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে দশটি বসতবাড়ী। এছাড়া কামারখালী-রউফনগর সড়কটিতে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘরে যাওয়ার এক মাত্র পথ। যার ফলে ওই এলাকার জনসাধারণ পায়ে হেটে এবং ভ্যানে করে যাতায়াত করছেন। তাছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ গ্রন্থগার ও স্মৃতি জাদুঘরের একমাত্র রাস্তাটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় দুর-দুরান্ত থেকে কোন দর্শনার্থীরা স্মৃতি জাদু ঘরটি পরিদর্শনে যেতে পারছেন না, ফলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নতুন প্রজন্মরা ।
মধুমতি নদীর ভাঙ্গনের ফলে ওই এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ উচ্চ বিদ্যালয়, দয়ারমপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং গন্ধখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দয়ারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এলাকার এক মাত্র যোগাযোগের রাস্তার ভাঙ্গন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেটে কোন অংশে ভ্যানে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে।
কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুর রহমান বিশ্বাস বাবু আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, নদী ভাঙ্গনে রাস্তাটি বিলীন হওয়ার কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রাক্কলন এর জন্য রাস্তার পরিমাপ করেছেন। রাস্তাটির নির্মানের জন্য টেন্ডার হওয়ার কথা।
এ ব্যাপারে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুৎফুন নাহার জানান, গত ডিসেম্বর মাসের জেলা সমন্বয় কমিটিতে জাদু ঘরের রাস্তাটির অবস্থা সম্পর্কে তুলে ধরা হয়। এই রাস্তাটি গুরুত্ব বিবেচনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রজেক্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়ে অনুমোদন নিয়েছেন বলে জনান এবং  গত শনিবার ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক বেগম উম্মে সালমা তানজিয়া মহোদয় রাস্তাটি পরিদর্শন করেছেন।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এর আওতায় ৮৫০ মিটার দৈর্ঘের একটি রাস্তা নির্মানের জন্য প্রায় ১৮ থেকে ১৯ কোটি টাকার প্রাক্কলন জমা দিয়েছি বর্তমানে ফাউলটি অনুমোদনের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে রয়েছে । অনুমোদন পেলেই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখ ফরিদপুর জেলা পরিষদ গত ২০০৬-২০০৭ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় রউফ নগর (সালামাতপুর) গ্রামে এক একর জমির উপর ৬২ লক্ষ ৯০হাজার টাকা ব্যয় করে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ গ্রন্থগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি নির্মান করেন।

No comments: