আবাহনী তো গোপালগঞ্জেরই ক্লাব!

আবাহনী তো গোপালগঞ্জেরই ক্লাব!

ক্রীড়া ডেস্ক : দেশআমারবিডি ডট কম
আপডেট:
গোপালগঞ্জের মানুষ উপচে পড়েছিল নিজেদের দলকে সমর্থন দিতে। ছবি: প্রথম আলোবরিশালের উজিরপুর থেকে এসেছেন আরিফুর রহমান। গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া থেকে সোহাগ হালদার। শহরের পাঁচুড়িয়ার কিশোর রূপম রায় এসেছে বাবার হাত ধরে। গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মণি স্টেডিয়ামে আজ দর্শকের ঢল নেমেছিল। পাঁচ হাজার দর্শক ধারণক্ষম স্টেডিয়ামের দুই পাশের গ্যালারিতে তিল ধারণের এতটুকু জায়গা ছিল না।
মাঠের চার পাশের লোহার ফেঞ্চিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিল আরও অন্তত হাজার পাঁচেক দর্শক। দেশের দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব আবাহনী-মোহামেডানের দ্বৈরথ যেন চুম্বকের আকর্ষণে এই দর্শকদের টেনে এনেছিল মাঠে। কারও হাতে ভুভুজেলা, কারও হাতে লেখা প্ল্যাকার্ডে ‘আবাহনী, আবাহনী’। ভুভুজেলা আর বাঁশির শব্দে কান পাতাই দায় হয়ে গিয়েছিল ছোট এই স্টেডিয়ামে। এর আগে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহেও প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ হয়েছে। কিন্তু দর্শকদের এমন অভূতপূর্ব সাড়া দেখা গেল শুধু গোপালগঞ্জেই।
বঙ্গবন্ধু তনয় শেখ কামালের হাতে গড়া ক্লাব আবাহনীর ম্যাচ দেখতেই যে এই দর্শকেরা এসেছিল তা তাদের অভিব্যক্তিতেই বলে দিচ্ছিল। এই আবাহনী ঢাকার ক্লাব শুধু? এই আবাহনীর সঙ্গে গোপালগঞ্জের মানুষও আত্মিক একটা টান অনুভব করেন। এই ম্যাচে মোহামেডানের কাছে হারলে চলত না। আবাহনী হারেনি, দারুণ এক জয় দিয়েই দর্শকদের মন ভরিয়েছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ২-১ গোলে হারিয়ে সমর্থকদের আনন্দের এক সন্ধ্যায় উপহার দিয়েছে আবাহনী।
পেনাল্টি থেকে আবাহনীর প্রথম গোলটি করেছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার লি টাক। অন্য গোলটি সানডে সিজোবার। ১৯ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এই নাইজেরিয়ান। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে মোহামেডানের সান্ত্বনার গোলটি করেছেন ডিফেন্ডার লন্ড্রি।
লিগের প্রথম পর্বে এই মোহামেডানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল আবাহনী। এই জয়ে ১৮ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। লিগের দুইয়ে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনীর চেয়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে আবাহনী। সমান ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দশেই মোহামেডান।
শক্তিতে এই মোহামেডানের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে লিগের চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচে পুরো তিন পয়েন্ট না পেলেই বরং অঘটন হতো আবাহনীর জন্য। তবে এই আবাহনীকেও যে ৪৮ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য অবস্থায় আটকে রেখেছিল মোহামেডান সেটাই অনেক বেশি।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত আবাহনী। ডান প্রান্ত দিয়ে জুয়েলের ক্রস ইমন মাহমুদ শট নিলেও বাইরে মারলেন! চতুর্থ মিনিটে জুয়েল এর ক্রস থেকে সানডে পা ছোঁয়াতেই পারল না। আবাহনীর দুই বড় অস্ত্র লি টাক ও সানডেকে যেন বোতলবন্দী করে রাখার চেষ্টা করেছিল মোহামেডান। কিন্তু জুয়েলকে আর আটকাতে পারেনি। ৪৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়া জুয়েলকে জড়িয়ে ধরেন মোহামেডানের গোলরক্ষক নেহাল। পেনাল্টি থেকে লি টাকের গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় আবাহনী। ৭৯ মিনিটে ওয়াহেদের বাড়িয়ে দেওয়া বলে শূন্য ডিগ্রি থেকে কোনাকুনি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সানডে।
হারই এই ম্যাচে লজ্জার, তা যে ব্যবধানে হোক। তবে মোহামেডানকে শেষ মুহূর্তে একটু সান্ত্বনা দিয়েছেন ডিফেন্ডার লন্ড্রি, যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে হেডে করেছেন ব্যবধান কমানো গোল।
আজকের এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের বিপিএলের গোপালগঞ্জ-পর্ব।

No comments: