মেক্সিকোয় আতশবাজি মার্কেটে বিস্ফোরণ, নিহত ২৯

মেক্সিকোয় আতশবাজি মার্কেটে বিস্ফোরণ, নিহত ২৯

মেক্সিকোতে একটি আতশবাজি মার্কেটে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২৯ জন নিহত এবং আরও ৭০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবারের মেক্সিকো সিটির বাইরে এ ঘটনায় পুরো সান পাবলিতো বাজারই ধংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
বিবিসি বলছে, সন্ধ্যায় রাজধানী থেকে ২০ মাইল দূরে তুলতেপেকের জনপ্রিয় এ বাজারে বিস্ফোরণ হয়।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ‌্যমে আসা ভিডিওতে অসংখ্য আতশবাজি আকাশের দিকে উড়তে এবং পুড়তে দেখা যায়। মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছিল। আগুনে দগ্ধ দোকান ও ধসে পড়া ভবনও দেখা যায় ভিডিওতে।
ঘটনাস্থলে স্বাস্থ্যকর্মী ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়দের ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট রাস্তা খালি রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ জানা যায়নি। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তুলতেপেক ইমার্জেন্সি সার্ভিসের প্রধান ইসিদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন।
স্থানীয় একটি টেলিভিশনকে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়েই প্রাথমিকভাবে ২৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করছেন তিনি।
মেক্সিকো পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনা তদন্তে একটি দল পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণে অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছে বলেও তাদের বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।
আহতদের মধ্যে ১৩টি শিশু আছে বলে জানিয়েছেন শহরটির গভর্নর এরুভিয়েল আভিলা, যাদের শরীরের অন্তত ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের গ্যালভেস্টন শহরে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। হতাহতদের জন্য তিনি আর্থিক সহায়তারও আবেদন করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রাথমিক বিস্ফোরণের পর অসংখ‌্য আতশবাজি বিকট শব্দ রঙের ফোয়ারা ছিটিয়ে আকাশের দিকে ছুটতে থাকে। এরপর পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়।
এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতা। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। প্রত্যাশা করছি, আহতরা দ্রুত সেরে উঠবেন।’
সান পাবলিতো মার্কেটে গত এক যুগের মধ্যে এটি বিস্ফোরণের তৃতীয় ঘটনা বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
২০০৫ এর সেপ্টেম্বরে দেশটির স্বাধীনতা দিবসের আগে আগে এক বিস্ফোরণে কয়েক ডজন লোক আহত হন। পরের বছর আবারও বিস্ফোরণ ঘটলে বাজারের অনেক এলাকা পুড়ে যায়।

No comments: