প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ৩ যুবক গ্রেপ্তার

প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ৩ যুবক গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশআমারবিডি ডট কম
আপডেট:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ উপজেলার দুটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত যুবকদের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আজ বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলেন উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের রাজ্জাক সরদারের ছেলে রাজু সরদার (২৮), টেংরাপাড়া গ্রামের মোসলেম শেখের ছেলে জসিম শেখ (২৮) এবং একই গ্রামের হায়াত আলী শেখের ছেলে সাগর শেখ (১৯)। তবে ওই তিন যুবক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

প্রতিমা ভাঙচুর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন জানান, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ওই গ্রাম থেকে সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তারর করা হয়। এর আগে বিকেলে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় সুশান্ত কুমার শীল নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি মামলা (নম্বর-২২) করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।
প্রসঙ্গত, উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর কাচরন্দ গ্রামের ছয়টি হিন্দু পরিবারের মধ্যে পাঁচটি পরিবারেই মন্দির রয়েছে। গত সোমবার দিবাগত রাত একটার পর থেকে ভোররাত চারটার মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা গ্রামের মন্টু কুমার শীল, পলান কর্মকার, সুশান্ত কুমার শীল, পার্থ দাস ও রতন কর্মকারের মন্দিরে থাকা অধিকাংশ কালী ও শিবমূর্তির হাত, পা বা কোনোটার মাথা ভেঙে ফেলে। ভাঙা মূর্তিগুলো ওই সব পরিবারের মন্দির ও বাড়ির উঠানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রাখে যায়। আবার কোনো কোনো প্রতিমার চুল নিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। রতন কর্মকারের একটি শিবমূর্তিও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে মন্টু কুমার শীল বাড়ির উঠানে শিব ও কালীমূর্তি ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানার পর জেলা পুলিশ সুপার সালমা বেগমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

No comments: