টাকা ছিনতাই করতে গিয়ে পুলিশ সদস্য আটক

টাকা ছিনতাই করতে গিয়ে পুলিশ সদস্য আটক

মিজান | দেশআমার বিডি ডট কম
আপডেট:
ঢাকা মহানগর ট্রাফিক (উত্তর) পুলিশের কনস্টেবল লতিফুজ্জামান। তিনি ও তার আরেক সহকর্মী মিলেই টাকা ছিনতাই করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ডেস্ক রিপোর্ট :
রাজধানীর লালবাগ কেল্লা মোড় এলাকায় ডিমের চালান সরবরাহ করে আজ শুক্রবার ভোরবেলায় ভ্যানে চড়ে ফিরছিলেন আবদুল বাসির। এই ডিম ব্যবসায়ীর গন্তব্য ছিল তেজগাঁও স্টেশন রোডের আড়ত। হোটেল সোনারগাঁও মোড়ে আসতে না আসতেই একটি মোটরসাইকেলে (ঢাকা মেট্রো ল ২৭-৪৭৪৩) চড়ে আসা দুই আরোহী তাঁর পথরোধ করেন। মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের জায়গায় ইংরেজিতে ‘পুলিশ’ লেখা।

মোটরসাইকেল আরোহী দুজনই পুলিশের পোশাক পরা ছিলেন। এ সময় আবদুল বাসিরের কাছে থাকা ৪৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পুলিশের পোশাকধারী দুই ব্যক্তি। তবে বাসির মোটরসাইকেলসহ একজনকে জাপটে ধরে ফেলেন। আরেকজন পালিয়ে যান। এ সময় সার্ক ফোয়ারা মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে শাহবাগ থানায় আনা হয়।

আটক ওই পুলিশ সদস্যের নাম লতিফুজ্জামান। তাঁর গ্রামের বাড়ি শেরপুর জেলায়। ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের (উত্তর) কনস্টেবল পদে তিনি চাকরি করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ওপর ব্যক্তিও পুলিশেরই সদস্য এবং তিনিও ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের (উত্তর) কনস্টেবল।

শাহবাগ থানায় নিয়ে লতিফুজ্জামানকে প্রথমে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাসের কক্ষে রাখা হয়। পরে তাঁকে থানার হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক “ দেশআমার বিডি ডট কম”কে বলেন, ছিনতাইয়ের সময় আটক ব্যক্তি ট্রাফিক উত্তরের একজন কনস্টেবল। তাঁর কাছে টাকা পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

ব্যবসায়ী আবদুল বাসির  বলেন, তেজগাঁও ডিমের আড়তে শাহ আলী ট্রেডার্স নামে তাঁদের ডিমের দোকান রয়েছে। ডিম বিক্রি শেষে ভ্যানচালকসহ তিনি সেখানেই ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলে চড়ে আসা দুজনের পুলিশের পোশাক পরা থাকলেও নেমপ্লেট ছিল না। ভ্যান ক্রস করে প্রথমে সামনের দিকে যায় মোটরসাইকেলটি। কিছু দূর এগিয়ে যাওয়ার পর মোটরসাইকেলটি ঘুরে আবার ভ্যানের কাছে আসে। প্রথম মোটরসাইকেল আরোহীর একজন ভ্যানচালকের কাছে ভ্যানে কী আছে জানতে চান। জবাবে ভ্যানচালক বলেন ডিম রাখার ২৪০টি খালি ঝুড়ি আছে।ছিনতাইয়ের সময় এই মোটরসাইকেলে চড়ে আসেন দুই কনস্টেবল। ছবি: প্রথম আলো

বাসির বলেন, এরপর একজন আমাকে বলে ‘এই তুই ভ্যানের ওপর থেকে নেমে আয়।’ কাছে গেলে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘তোর পকেট ফোলা কেন? গাঁজা আছে?’ উত্তরে বাসির জানান, তিনি চা-সিগারেট কিছুই খান না। তখন ওই ব্যক্তি তাঁর প্যান্টের পকেটের জিনিসপত্র বের করে দিতে বললে তিনি পকেট থে​কে মুঠোফোন আর ৪৪ হাজার টাকা বের করে দেন।

বাসির বলেন, হাতে টাকা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেল চালাতে শুরু করেন তাঁরা। আর তখনই বাসির জাপটে ধরে ফেলেন একজনকে। অন্যজন দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় সার্ক ফোয়ারা মোড়ে পুলিশের একটি টহল গাড়ি এগিয়ে এলে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
ডিম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশের পোশাক পরে ছিনতাইয়ের ঘটনা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই ঘটে। এ কথা জানিয়ে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির উপদেষ্টা মাসুম খান  বলেন, আগে ট্রাক নিয়ে এসে ডিমের চালান ছিনতাই হতো। বছর খানেক ধরে পুলিশের পোশাকধারী ব্যক্তিরা ডিম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করছেন। তাঁদের ধারণা ছিল ছিনতাইকারীরা পুলিশের পোশাক পরে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। কিন্তু এবারই প্রথম একজনকে আটক করে দেখা গেল তিনি পুলিশের সদস্য।
এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করবেন বলে জানান ব্যবসায়ী আবদুল বাসির।

রমনা জোনের সহকারী কমিশনার ইহসানুল ফিরদাউস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি দুজন ছিলেন ঘটনাস্থলে। একজনকে আটক করে আমাদের কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তাঁরা দুজনই পুলিশের সদস্য। দুজনই ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের (উত্তর) কনস্টেবল পদে কর্তব্যরত রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল প্রসিডিউর অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইহসানুল বলেন, লতিফুজ্জামানের সঙ্গে যিনি ছিলেন তাঁর পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। লতিফকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাবে।

No comments: