ঢাকা বিভাগকে আরও ছোট করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা বিভাগকে আরও ছোট করা হবে: প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
নাগরিক সেবা বাড়াতে ঢাকাকে ভেঙে আরও নতুন বিভাগ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘ঢাকা বিভাগকে ভেঙে ময়মনসিংহ বিভাগ করা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা আছে ঢাকাকে আরেকটু ছোট করে দেওয়া। এতে জনগণের দোরগোড়ায় সেবাটা পৌঁছাতে পারব।’
আজ বুধবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগের উন্নয়ন পরিকল্পনাসংক্রান্ত সভায় শেখ হাসিনা এ পরিকল্পনার কথা জানান।
ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। সবার কাছে সেবা পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ একান্তভাবে প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিভাগ বিশাল। এখানে ১৭টি জেলা। ১৭টি জেলায় কাজ করা অত্যন্ত কঠিন। সেবাটা নিশ্চিত করতে আমরা প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে ছোট ছোট করে ভাগ করে দেব, যাতে সেবাটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। তৃণমূলে সেবা পৌঁছাতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো একটা কিছু হলেই ঢাকায় ছুটে আসতে হবে। এভাবে তো মানুষের সেবাটা নিশ্চিত করা যায় না। তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর মানসিকতা বাদ দিয়ে দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, চিন্তাটাকে সব সময় আরও স্বচ্ছ, সুদূরপ্রসারী করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, কয়েক দশক পর দেশের জনসংখ্যা কত হবে, দেশের অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কী হবে, সেসব চিন্তা মাথায় রেখে শহর, রাস্তা, অবকাঠামো নির্মাণসহ যেকোনো উন্নয়নকাজের দূরদর্শী পরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি বলেন, এখন অনেক শহর এমন উন্নত হয়ে গেছে যে ট্রাফিক জ্যাম হচ্ছে, বাইপাস করতে হচ্ছে। এসব চিন্তাভাবনা আগে থেকেই করা উচিত।
আধুনিক ও পরিকল্পিত ময়মনসিংহ শহর গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ময়মনসিংহ শহর একটা গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল। জায়গা পছন্দ করে দিয়েছি; আধুনিক, সুন্দর একটা শহর গড়ে উঠুক।’
ইতিমধ্যে ঢাকা বিভাগকে ভেঙে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে দেশের অষ্টম বিভাগ ময়মনসিংহ গঠন করা হয়েছে। ১৮২৯ সালে ঢাকা বিভাগ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল ঢাকা বিভাগের অংশ ছিল।
অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম ও প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

No comments: