মধুমতীর গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে মধুখালীর দুটি প্রাচীন বিদ্যালয় ও শতাধিক ঘরবাড়ী


মধুমতীর গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে মধুখালীর দুটি প্রাচীন বিদ্যালয় ও
শতাধিক ঘরবাড়ী
মধুখালী(ফরিদপুর)প্রতিনিধি ঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধুমতি নদীর ভাঙ্গন তীব্র হয়েছে। গত ১১ দিনে প্রায় ৬০ টি পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে দুটি বিদ্যালয় ও শতাধিক ঘরবাড়ি।
১৯২৩ সালে স্থাপিত হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ১৯৭৩ সালে স্থাপিত হয় উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। পাশাপাশি দুটি বিদ্যালয়। দুটি বিদ্যালয়ের জন্মের ব্যবধান ৫০ বছর হলেও ২০১৬ সালের ৩০ আগষ্ট একই সাথে মধুমতী নদীর গর্ভে শেষ সমাধি রচনা করার অপেক্ষায় রয়েছে দুটি বিদ্যালয়ের পাকা, সেমি পাকা মিলিয়ে নয়টি ভবন।
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গয়েষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গয়েষপুর-বক্সিপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই হলো বর্তমান অবস্থা। জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নে মধুমতী নদীর পশ্চিমপাড়ে মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলাসংলগ্ন এলাকায় ওই বিদ্যালয় দুটি অবস্থিত।
শুধু ওই দুটি বিদ্যালই নয়। ওই ইউনিয়নের গয়েষপুর, চর গয়েষপুর, বক্সিপুর, বিজয় নগর, জারজন নগর ও স্বরবরাজন এই ছয়টি গ্রামে মধুমতী নদীর তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এ বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে ভাঙ্গন শুরু হলেও গত ১১দিন ধরে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। ইতিমধ্যে ৬০টি পরিবার হারিয়েছে তাদের বসতবাড়িসহ শেষ সম্বল। ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার। আর পানি বন্দী হয়ে আছে পাঁচ শতাধিক পরিবার।
গত মঙ্গলবার থেকেই দুটি বিদ্যালয়ের নয়টি ভবন থেকে আসবাবপত্র সরানো হচ্ছে। খুলে ফেলা হয়েছে দরজা, জানালাসহ  অন্যান্য সামগ্রী। এখন শুধু বিলিনের অপেক্ষায় রয়েছে বিদ্যালয়ের ভবনগুলি।
ভাঙ্গনের কারনে গয়েষপুর-বক্সিপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান গত বুধবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই বিদ্যালয়ের ১৮৫ জন শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গয়েষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ দান। পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে ওই বিদ্যালয়ের ১৬২ জন শিক্ষার্থীর।
গয়েষপুর-বক্সিপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন বিশ্বাস জানান, স্কুলের ছয়টি ভবনের মধ্যে সেমি পাকা দুটি ও ডোয়া পাকা চারটি ভবন রয়েছে। আমরা স্কুলের বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়েছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের। তারা পাঠদানের জন্য বিকল্প জায়গা খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কবে থেকে পাঠ দান শুরু করতে পারবো জানিনা।
ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো.জাহিদুর রহমান বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা মালামাল সরিয়ে নিচ্ছি।
গয়েষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ওহেদুজ্জামান বলেন, ১৯২৩ সালে এ বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। তখন এটি ছিল গয়েশপুরে। ৩০ বছর আগে ভাঙ্গনের কারনে স্কুলটি বক্সিপুরে বর্তমান স্থানে নিয়ে আসা হয়। এবার আমরা দ্বিতীয় দফা ভাঙ্গনের করলে পড়েছি। তিনি বলেন, আমাদের স্কুলের তিনটি ভবনের মধ্যে দুটি পাকা ও একটি সেমি পাকা ভবন রয়েছে। আমরা খুব বিপদের মুখে রয়েছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী উপজেলার ইউএনও লুৎফুন নাহার গতকাল বুধবার বলেন, ওই এলাকায় ভাঙ্গন ঠেকাতে এবং স্কুলের ভবনগুলি রক্ষা করার জন্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), জেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সকলকে উদ্যোগ নিতে বলেছি। এ কারনে দুটি স্কুলের ভবনের আসবাবপত্রসহ আনুসংগিক সামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, গয়েষপুর বক্সিপুর এলাকায় পাউবোর কোন প্রকল্প চলমান নেই। এজন্য আমাদের কাজ করার সুযোগ কম। তবে স্কুলের ভবনগুলি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যারা নির্মাণ করেছে তাদেরই প্রতিরক্ষামূলক কাজ হাতে নেওয়া উচিত।

No comments: