শতবর্ষী বালিয়াকান্দি মডেল স: প্রা: বিদ্যালয়ের একি হাল ?

মাসুদ, রাজবাড়ী :
পড়ালেখা করে সবার ভাগ্যের পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন ঘটছে না শতবর্ষী বালিয়াকান্দি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ভাগ্য। ভৌত অবকাঠামোগত সমস্যাসহ নানা সমস্যায় জর্জরীত এই শর্তবর্ষী বিদ্যালয়। টানা দুই দিনের ভারি বর্ষণে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত শতবর্ষী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় ছুটি ঘোষণা করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে হাটুপানি জমা হওয়ার কারণে মারাত্মক ভাবে বিঘœ ঘটে  পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের প্রবেশ গেট থেকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে স্কুলে আসতে দিতে অপরাগতা স্বীকার করছেন।

এদিকে শ্রেণি কক্ষের ভিতরে পানি ঢুকে পড়ায় এবং পাঠদানের অনুপযোগী হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষনিকভাবে গতকাল সোমবার ১ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক চাঁদ সুলতানা জানান, আজকের মধ্যে যদি পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তাহলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে প্রবেশের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য রুমের মধ্যে হাটু পানি জমা হয়েছে। পুরো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শূণ্য।

এসময় একাধিক শিক্ষকরা বলেন, বালিয়াকান্দি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দিন দিন নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ছে। বালিয়াকান্দি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এবং লেখাপড়ার মান সন্তোষজনক হওয়ার সুবাদে এলাকার সচেতন অভিভাবকদের আস্থার একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেশ নাম ডাক রয়েছে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। শিক্ষার্থী অনুপাতে শ্রেণিকক্ষের সংকট দীর্ঘদিনের। শ্রেণি সংকট দুর করার জন্য অনেক আগে থেকেই বালিয়াকান্দি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩টি শ্রেণিকক্ষ ধার করে চালাতে হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম। তাছাড়া জরাজীর্ণ ভবনে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় কাস নিতে হচ্ছে আমাদের। বিদ্যালয়টিতে একটি নতুন ভবন খুবই প্রয়োজন। 

বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েমা সুলতানা রানু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সামান্য বৃষ্টিতে টিনের চালার ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে আমাদের বই খাতা ভিজে যায়। কাসে বসার জায়গা নিয়ে চলে রীতিমতো প্রতিযোগিতা। বছরে ৬ মাসই কাঁদা পানিতে দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে কাস করতে হয় আমাদের। আর সামান্য বৃষ্টিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জলাবদ্ধতার ফলে কোন ধরনের খেলাধুলাও করতে পারি না আমরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯১৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে শিশু থেকে ৫ শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৫০২ জন। এখানে ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক চাঁদ সুলতানা জানান, রবিবার বৃষ্টিতে কাস রুমের মধ্যে পানি জমে যাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ছুটি দিতে বাধ্য হই। সোমবারে যথাসময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত হলেও পানি নি:স্কাশন না হওয়ায় সবাই পানি সরানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে সংরক্ষিত ছুটি দিতে বাধ্য হই। এসময় তিনি বিদ্যালয়ের নতুন বহুতল ভবন নির্মানসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, স্কুলের জলাবদ্ধতাসহ ভৌত অবকাঠামোগত সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিষয়টি আমরা উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনেক আগেই জানিয়েছি।

বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: নায়েব আলী শেখ জানান, আমি সবেমাত্র দায়িত্বগ্রহণ করেছি। সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত এ দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে না। বালিয়াকান্দি শহরসহ স্কুল এলাকায় পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে দ্রুত প্রকল্প গ্রহন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি এ সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে।

No comments: