১ বছরেও চালু হয়নি মধুখালীর ৫০ শষ্যার হাসপাতালের কার্যক্রম স্থাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলাবাসী


১ বছরেও চালু হয়নি মধুখালীর ৫০ শষ্যার হাসপাতালের কার্যক্রম
স্থাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলাবাসী
দেশআমার টোয়েন্টিফোর ডট কম  :
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন ৩১ শষ্যা বিশিষ্ঠ একমাত্র সরকারী হাসপাতাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অবস্থিত। স্থানীয় ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুর রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সরকার ২০১৩ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যার ঘোষণার দেন। এর পর স্বাস্থ্য বিভাগ ১০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৪ তলা বিশিষ্ঠ একটি হাসপাতাল ভবন, একটি পরিবার পরিকল্পনা অফিস কাম স্টোর ভবন এবং  কর্মচারীদের জন্য ৪তলা বিশিষ্ঠ একটি ডরমেটরি ভবন নির্মিত হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গত ৩০ মে ২০১৫ তারিখে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্ত নির্মানের ১ বছর পার হলেও সেটির প্রশাসনিক এবং আর্থিক অনুমোদন না থাকার কারণে হাসপাতালটি চিকিৎসা সেবা চালু করতে পারছেনা। ফলে উপজেলাবাসী উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এদিকে ৩১ শয্যা মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি কর্মচারী সুইপার, জুনিয়র মেকানিক্স, স্বাস্থ্য সহাকারি, এম এল এস এস, ওয়ার্ড বয় এবং নিরাপত্তা প্রহরীসহ ৩০টি পদ শুন্য থাকায় সেটিও সমস্যায় জর্জরিত। এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা নতুন ভবন নির্মিত হলেও উদ্বোধন না হওয়ায় হাসপাতালের ৫টি কক্ষ তাদের অফিস থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউট ডোরে চিকিৎসকগণ রোগী দেখতে পারছেন না। দুইটি এ্যম্বুলেন্স থাকলেও ড্রাইভার মাত্র এক জন। এ দিকে নতুন ভবনে ৩য় ও ৪র্থ তলায় রোগী বহনের কোন সিঁড়ি বা ব্যবস্থা নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্ত (টিএইচও) ডা. মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, মধুখালী হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত হওয়ার বর্ধিত করণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গত ৩০ মে ২০১৫ তারিখে ৪তলা বিশিষ্ঠ হাসপাতাল ভবনসহ আরও দুটি ভবন সম্পন্ন হয়। কিন্তু প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় সেটি উদ্বোধন বা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতাল ভবনটিতে নিচ তলায় ট্রমা সেন্টার সংশ্লিষ্ট একটি এসি অপারেশন থিয়েটার, এক্স্রে বিভাগ, একটি অবজারভেশন রুম, ১টি পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় ওয়ার্ড, বর্হিবিভাগ, সার্জিক্যাল চিকিৎসকদের রুম, নার্স রুম এবং ইপিআই রুম। ৩য় ও ৪র্থ তলায় অপারেশন থিয়েটার, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড এবং দুটি ক্যাবিন। তিনি বলেন, ১ বছর তিন মাস আগে ভবন নির্মিত হলেও প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় ও যন্ত্রপাতির না থাকা  ৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু হচ্ছে না।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন ডা. অরুণ কান্তি বিশ্বাস জানান, এটা আইনী জটিলতা। ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন থাকলেও মূলত যন্ত্রপাতির স্বল্পতা এবং আর্থিক অনুমোদন না থাকায় এটা উদ্বোধন বা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এটা ‘নামে আছে কাজে নেই’। হাসপাতালটি ৫০শয্যা চালু হলে রোগীর খাবার, যন্ত্রপাতি, স্টাফসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রয়োজন হবে। যে কারণে এ অবস্থায় রয়েছে। তবে চলতি অর্থ বছরে হাসপাতালটির সকল আর্থিক অনুমোদন পাওয়ার সম্ভব হবে বলে তিনি দাবী করেন।  
মধুখালী উপজেলার ৩ লাখ জনগনের একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন অবস্থিত ও চতুর্পাশে বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ন সড়ক রয়েছে যেখানে প্রতিদিন একটা না একটা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। এই জনগুরুত্বপূর্ন হাসপাতালটি যাতে দ্রুত কার্যক্রম চালু হয় এর জোড় দাবী এলাকাবাসীর।

No comments: