তনুর পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রতিবেদন মেডিকেল বোর্ডে

 

তনুর পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রতিবেদন মেডিকেল বোর্ডে

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ড।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কুমিল্লা সিআইডি কার্যালয় থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের (কুমেক) ফরেনসিক বিভাগে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।
কুমেকের ফরেনসিক বিভাগ এবং তনুর লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. কেপি সাহা এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার রাতে এ প্রতিবেদন ঢাকা থেকে কুমিল্লায় সিআইডির কাছে পৌঁছায়।
সিআইডির ঢাকার ফরেনসিক পরীক্ষাগারের ডিএনএ অ্যানালিস্ট বিশেষ পুলিশ সুপার নাসিমা বেগম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত রোববার তনুর পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রতিবেদন ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করতে কুমিল্লার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম জয়নাব বেগম নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ডা. কেপি সাহা বলেন, 'ময়নাতদন্তকারী বোর্ডের সভা আহ্বান করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে।'
গত ২৯ মে তনুর ভেজাইনাল সোয়াব ও দাঁতের ডিএনএ প্রতিবেদন ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মুস্তাইন বিল্লা। কিন্তু তনুর ভেজাইনাল সোয়াব, অন্তর্বাস, শরীরের অংশবিশেষ, কাপড়, চুলসহ সব ডিএনএ প্রতিবেদন একসঙ্গে সন্নিবেশিত থাকায় পুরো প্রতিবেদন সরবরাহের জন্য গত রোববার করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই নির্দেশ দেন।
গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন দুপুরে কুমেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা তনুর ময়নাতদন্ত করেন। গত ৪ এপ্রিল প্রকাশ করা এ ময়নাতদন্তে তনুর মৃত্যুর কারণ বা ধর্ষণের আলামত উল্লেখ ছিল না।
গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ১৪ মে কুমিল্লার আদালতে পৌঁছায় ৭টি বিষয়ের ডিএনএ প্রতিবেদন।
গত ১৬ মে তনুর ভেজাইনাল সোয়াবে তিন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া যাওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এ মৃত্যু নিয়ে ফের আলোচনার ঝড় উঠে। ওই ডিএনএ প্রতিবেদন পেতে সিআইডির সঙ্গে ফরেনসিক বিভাগের চিঠি চালাচালির পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

No comments: