দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে রাজবাড়ীর টুপি


দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে রাজবাড়ীর টুপি

সোহেল মিয়া দেশআমারটোয়েন্টিফোর.কম : 

রাজবাড়ী প্রতিনিধি : ঈদকে সামনে রেখে কারুকার্য খচিত টুপি তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার। আর এ সকল পরিবারের প্রায় ২ হাজার নারী এই টুপি তৈরির কাজ করছে। এদের তৈরি করা এসব টুপি দেশের গন্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে ওমান, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও ইরানে। 


টুপি সেলাই ও হাতের কাজ করে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির নারীরা এখন স্বচ্ছলতার মুখ দেখছেন। স্বপ্ন বুনছেন সুখের সংসারের। 

বালিয়াকান্দি উপজেলার শালমারা, বকচর, দোনাইখালী, খালকুলা, নিশ্চিন্তপুর, নারুয়া, ঘিকমলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামে এখন বেড়াতে গেলে চোখে পড়ে টুপি তৈরির দৃশ্য। ঘরে ঘরে টুপি তৈরিতে ভীষণ ব্যস্ত নারীরা। সাংসারিক কাজের ফাঁকে তারা নানা সুখ দু:খের গল্প ও আড্ডার মধ্য দিয়ে সুনিপুণ কারুকার্যময় টুপি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। 

নারুয়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আলম সর্দারের স্ত্রী সাহিদা বেগম (৩৫) জানান, অস্বচ্ছলতার কারণে সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছিল তার। ওমানের সালালাহ শহরের প্রবাসী হুমায়ুন কবিরের মাধ্যমে তিনি টুপি তৈরির কাজে উদ্বুদ্ধ হন। তারপর থেকেই পথচলা শুরু। 

তিনি বলেন, ‘এখন আমি ও আমার কলেজ পড়–য়া মেয়ে আফরোজা এই কাজে সময় ব্যয় করি। পড়ার ফাঁকে আমার মেয়ে এই কাজ করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করছে। এতে আমাদের বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়েছে।’ 

একই গ্রামের জান্নাত ক্যাপ প্রোডাক্টের মালিক এবং উদ্যোক্তা মো: জুলফিকার আলী জানান, তাদের তৈরি নকশা করা টুপি বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে যাচ্ছে। চাহিদাও ব্যাপক। 

জুলফিকার আলী বলেন, হাতের কাজ করা ওমানী টুপি তৈরি করতে আমাদের প্রায় ৭০০ টাকা খরচ হয়। এই টুপিগুলোই ওমানে বাংলাদেশি টাকার অঙ্কে প্রায় ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আমি ও হুমায়ন দুজন মিলে রাজবাড়ী, বৃহত্তর ফরিদপুর ও মাগুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে নারীদের টুপি তৈরিতে উৎসাহ যোগাচ্ছি, আবার প্রশিক্ষণও দিচ্ছি। এসব নারীরা এখন টুপি তৈরি করে বাড়িতে বসেই বাড়তি আয় করছে। 

টুপি উৎপাদনের মূল উদ্যোক্তা ওমান প্রবাসী হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী জানান, টুপি তৈরি করে গ্রামের সাধারণ নারীরা ও স্কুল কলেজের মেয়েরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তেমনি দেশও লাভবান হচ্ছে।

No comments: