ব্যস্ততার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি: ন্যান্‌সি

 

ব্যস্ততার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি: ন্যান্‌সি

দেশআমারটোয়েন্টিফোর.কম :
 
আগামী ২৩ নভেম্বর ঢাকার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই বাংলার শিল্পীদের অংশগ্রহণে কনসার্ট ‘ক্যাচ অনুপম রায় লাইভ ইন ঢাকা’। এতে ওপার বাংলা থেকে গাইতে আসছেন সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অনুপম রায়। বাংলাদেশ থেকে এই কনসার্টে গান করবেন পারভেজ এবং ন্যান্‌সি। দুই বাংলার শিল্পীদের অংশগ্রহণে এই আয়োজন নিয়ে ব্যক্তিগত কিছু অনুভূতির কথা জানিয়েছেন ন্যান্‌সি।
ধারাবাহিক এই আয়োজনের নাম ‘দুই বাংলার গান’ অথচ পর্বটির নাম ভারতের শিল্পী অনুপমের নামে কেন?
নাম রেখেছেন আয়োজকেরা। এতে হয়তো তাঁদের টিকিট বেশি বিক্রি হবে। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, অতিথিশিল্পীর নামে অনুষ্ঠানের নামকরণ করে দেশের শিল্পীদের ছোট করা হচ্ছে কিনা একটু ভেবে দেখা দরকার। তা ছাড়া ভারতের শিল্পীরা গাইতে এলে আমাদের শ্রোতাদের ভেতরেও এক ধরনের উত্তেজনা দেখা যায়। দেশের শিল্পীদের ক্ষেত্রে বরং খানিকটা উদাসীনতা দেখা যায়। ভারতের গুণী শিল্পীদের গান কিন্তু আমিও শুনতে যাই।
এটা নিয়ম হয়ে গেছে বলা যায় না?
তেমনটাই তো মনে হচ্ছে। সুনিধি চৌহান বাংলাদেশে আসার আগে সারা শহর পোস্টারে ছেয়ে গেল। সেখানে দেখলাম সুনিধির ছবিটা বড় করে দেওয়া আর হাবিব ওয়াহিদের ছবিটা ছোট। সাধারণ মানুষতো বুঝবে না যে অতিথিকে সম্মান জানানো হচ্ছে। তাঁরা ভাববেন যে হাবিবের থেকে সুনিধিই বড় শিল্পী।
গানের অনুষ্ঠান কম হচ্ছে নাকি আপনি কম অংশ নিচ্ছেন?
অনেকে বলেন যে, শো আগের থেকে কম হচ্ছে। আসলে তা নয়। শো নিয়মিতই হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানেই ভারতীয় এমনকি বিদেশি শিল্পীদের প্রাধান্য থাকছে, তাঁদের প্রচুর সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণটা সেখানে কম বা গৌণ।
শ্রোতারা তো ভারতের শিল্পীদের গানই বেশি পছন্দ করেন!
এ জন্যই তো আয়োজকেরা তাদেরই বারবার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। ২০০৯ সালে একটি পাঁচ তারকা হোটেলের অনুষ্ঠানে গাইতে গিয়েছিলাম। ওই মঞ্চে নচিকেতা গেয়েছিলেন। আমি তৃতীয় গানটা গাইবার উপক্রম করতেই শ্রোতাদের ভেতরে উসখুস শুরু হয়ে গেল— আমি কখন নামব আর নচিকেতা উঠবেন। আয়োজকদেরও দমবন্ধ অবস্থা। খুব খারাপ লেগেছিল ব্যাপারটা।
এই দায় কার?
আসলে আয়োজকদের দোষ দেওয়া যায় না। তাঁরা তো আয়োজনগুলো করেন ব্যবসা করার জন্য। দর্শক-শ্রোতারা যদি ভারতের শিল্পীদের গান শুনতে চান, তাঁরা তো আনবেনই। দর্শকদের চাহিদা আর নিজেদের ব্যবসার কথাই তাঁরা মাথায় রাখবেন, সেটাই স্বাভাবিক। না হলে বিদেশি শিল্পীদের পাঁচ ভাগের এক ভাগ সম্মানী দিয়ে দেশের শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা যেত।
তাহলে কি বাইরের শিল্পীদের আমন্ত্রণ করে আনা যাবে না?
যাবে না কেন? তাঁরা আসবেন, আমরা যাব। এতে সাংস্কৃতিক বিনিময় হবে। তবে বিদেশি শিল্পীদের সামনে দেশি শিল্পীদের যেন অবমূল্যায়ন না হয়, অপমান করা না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
ইদানীং কি করছেন? গান শোনা বই পড়া এসব হয়?
সপ্তাহখানেক আগে চলচ্চিত্রের জন্য একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছি। গানটি লিখেছেন শহীদুল্লাহ ফরায়েজী এবং সুর করেছেন ইমন ভাই। সামনে বেশ কয়েকটি স্টেজ শো আছে। ঈদুল আজহায় সাউন্ডটেক থেকে একটা অ্যালবাম বের হওয়ার কথা ছিল। সময়মতো কাজটি শেষ হয়নি। আজ দুটো গানে ভয়েস দেওয়ার কথা আছে। বাচ্চার পরীক্ষা-পড়ালেখা নিয়ে আছি, ভীষণ ব্যস্ততার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। তবে ভালো আছি। আর বিগত কয়েক মাসে কোনো বই পড়িনি। বেশ দীর্ঘ সময় ধরে ময়মনসিংহ থাকতে হচ্ছে।

No comments: