এশিয়ান হাসপাতালে তিন শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসক নেই

স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকার লালমাটিয়ার এশিয়ান কার্ডিয়াক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে গতকাল শুক্রবার রাত নয়টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সকালে হাসপাতালটিতে গিয়ে কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। আতঙ্কিত অভিভাবকেরা অসুস্থ শিশুদের হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।
এশিয়ান কার্ডিয়াক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু। ছবি: সাহাদাত পারভেজ
সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কোনো চিকিৎসক নেই। হাসপাতাল ফাঁকা। হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন এক শিশুর স্বজন এহসানউদ্দিন বলেন, তাঁরা শিশুটিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁরা জানতে পেরেছেন, গত চার দিনে এই হাসপাতালে ছয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এশিয়ান হাসপাতাল থেকে রোগী সরিয়ে নিচ্ছেন আতঙ্কিত স্বজনেরা। ছবি: সাহাদাত পারভেজ
হাসপাতালে সকালে তিনজন শিশুকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা যায়। বেলা বাড়ার পর আতঙ্কিত অভিভাবকদের স্ট্রেচার ও অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীদের সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে একজন সেবিকাকে পাওয়া গেছে। তাঁর নাম জয়া। তিনি পুরো নাম বলতে রাজি হননি। জয়ার দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসার সব ব্যবস্থা আছে। মৃত তিন শিশুর মধ্যে দুজনের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। একজন ছিল অপরিণত শিশু। পরে তারা মারা গেছে। তাদের নাম কী বা কোত্থেকে এসেছে, তা তিনি জানেন না।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু। ছবি: সাহাদাত পারভেজ
সেবিকা জয়ার ভাষ্য, এনআইসিইউতে নবজাতক বিশেষজ্ঞ শিশির রঞ্জন দাস নামে একজন চিকিৎসক চিকিৎসা দেন। তিনি এখানকার সার্বক্ষণিক চিকিৎসক নন। সকালে ও রাতে যখন সময় পান, হাসপাতালে এসে চিকিৎসা দেন। বাকি সময় হাসপাতালের অন্য চিকিৎসক ও সেবিকারা চিকিৎসা দেন। শিশির রঞ্জন দাস সরকারি কোন হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত, জয়া তা জানেন না বলে জানান।
ফাঁকা পড়ে আছে হাসপাতাল। ছবি: সাহাদাত পারভেজ
হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মোহাম্মদপুর জোনের কমিশনার বিপ্লব কুমার সাহার ভাষ্য, গতকাল রাত নয়টা থেকে ১০টার মধ্যে হাসপাতালে তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁরা হাসপাতালে কাউকে খুঁজে পাননি। চেষ্টা চলছে। হাসপাতালের মালিক সম্পর্কে পুলিশ কিছু জানতে পারেনি। তবে তারা জেনেছে, হাসপাতালের মালিকানা সম্প্রতি পরিবর্তন হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক শামিউল ইসলামের ভাষ্য, হাসপাতালটি কারা পরিচালনা করেন, তা জানার চেষ্টা চলছে।

No comments: