বুলগেরিয়া থেকে পায়ে হেঁটে ৫১১ দিনে ভারতে

বাসে নয়, বুলগেরিয়া থেকে পায়ে হেঁটে ও হিচহাইক করে ৫১১ দিনে ভারতে পৌঁছেছে এক দম্পতি।  বোরিস ও মার্তার সঙ্গী হিসেবে সঙ্গে ছিল তাদের পোষ্য বিড়াল বার্মা।  তুরস্ক, মিয়ানমার, চীন, ইরাক হয়ে ৫১১ দিনে ভারতে এসে পৌঁছেন তারা।

বুলগেরিয়ার দম্পতি বোরিস কানেভ ও মার্তা সামালি।  একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তারা ঠিক করেন, এ ধরনের একটা সফর করবেন।  সামালি লিখেছেন, আমরা দুজনেরই এই উপমহাদেশে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল।  ঠিক করি, প্রত্যেকটা পদক্ষেপ আমরা করব, প্রত্যেকটা সীমান্ত পেরবো, মানচিত্রের প্রত্যেকটা ছবি কভার করব, জায়গাগুলো ও তার স্বাদ অনুভব করব।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, হাজার হাজার কিলোমিটারের এই পথে ইচ্ছে করে সঙ্গে কোনো স্মার্টফোন রাখেননি। কারণ তাদের মতে, স্মার্টফোন সঙ্গে না রাখাটাই তাদের কাছে সুবিধাজনক।  
কানেভ তার ব্লগে লিখেছেন, স্মার্টফোন সঙ্গে থাকলেই আমরা বেশির ভাগ সময় ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বসে থাকি।  ফেসবুক চেক না করে বা রিংটোন না শুনে প্রকৃতিকে উপভোগ করার আনন্দ পাওয়া যায় নিজেকে এ সবের থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে।
সফরে পুরনো একটা নোকিয়ার ফোন সঙ্গে রেখেছিলেন এই দম্পতি।  মাঝে মধ্যে দু-একটা ফোন কলের মাধ্যমে তারা বাকি পৃথিবীর সঙ্গে য়োগাযোগ রেখেছিলেন।  আর নিজেদের সফরের অভিজ্ঞতার কথা ব্লগ rovingsnails.com-এ লিখেতে থাকেন তারা।
পুরনো মোবাইল ফোনটি ছাড়া প্রয়োজনের জিনিস বলতে তাদের কাছে ছিল একটি মানচিত্র, একটি নেটবুক, একটি DSLR ক্যামেরা এবং একটি ই-বুক রিডার।  বিশাল এই সফরে অন্যের গাড়িতে লিফট নেয়ার সময় পথ ভুল করা, পাহাড়ের খাঁড়াই-উৎরাই চড়া, বন-জঙ্গলে হিংস্র পশুর ভ্রূকুটি- কোনোকিছুতেই তারা পেছন ফিরে তাকাননি।
বরং নতুন নতুন জায়গায় যে মানুষদের সঙ্গে তাদর দেখা হয়েছে, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছেন বুলগেরিয়ার এই দম্পতি।  নিজেদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে এক সাধুবাবার সঙ্গে সাক্ষাতের উল্লেখ করেছেন সামালি।
বজ্রপাতের আওয়াজ শুনে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হবে দেখে, সামলিরা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সেই রাতে বৃষ্টি হবে কিনা। অভয় দিয়েছিলেন সাধুবাবা। বৃষ্টি হয়নি। পরদিন সকালে গর্বিত সাধু বাবা গরম চা এনে তাদের ঘুম ভাঙান।

No comments: